ত্রিপুরা ফোকাস

No result ..

ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার ভারত, মণিপুর ফুটবলে সুর্যোদয়

মণিপুর ফুটবলে সুর্যোদয় হল! অনূর্ধ্ব ১৭ ভারতীয় ফুটবল দলে সুযোগ পেল আটজন মণিপুরী ফুটবলার। সেই নিয়ে মণিপুরের সঙ্গে ভারতীয় ফুটবলমহলও উল্লসিত। কিন্তু একইসঙ্গে যে নিঃশব্দে সুর্যাস্ত হয়ে গেল ভারতের আর এক রাজ্যের ফুটবলে! বুধবার গোয়া থেকে ফোনে কথা বলার সময় এতটুকু দ্বিধা নেই আর্মান্দো কোলাসোর। বলে দিলেন, ‘‘আমার জীবনে এরকম দুঃখের দিন আসেনি!’’ হয়তো ঠিকই বললেন। আগামী শুক্রবার থেকে ভারতে শুরু হতে চলেছে অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ। ২১জনের ভারতীয় ফুটবল দলে গোয়ার কোনও প্রতিনিধিত্ব নেই! ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট নিয়ে যে রাজ্য প্রায় গত তিন দশক ধরে অবিরাম কাজ করে চলছে। আট এবং নয়ের দশক থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রায় ৩০ বছর ধরে যে গোয়া’কে বলা হতো ভারতীয় ফুটবলের ইয়ুথ ডেভেলপমেন্টের আতুঁরঘর!  প্রাক্তন জাতীয় কোচ জানালেন, চার্চিল ব্রাদার্সে সাত বছর এবং ডেম্পোতে তাঁর ১৩ বছরের কোচিং জীবনে কত জুনিয়র ফুটবলার পরবর্তীকালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তার কোনও ইয়ত্তা নেই।

বুধবার এই প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘‘গোয়ায় বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শিবিরে শুরুতে ৬৪জনের প্রাথমিক শিবিরে দু’জন ফুটবলার ছিল গোয়ার। তার মধ্যে গোলকিপারটি যথেষ্ট সম্ভাবনাময় ছিল। হয়তো ২১জনের দলে ঢুকেও পড়তে পারত। কিন্তু পড়াশুনোর চাপের কথা বলে ওর বাবা-মা ছেলেটিকে শিবির থেকে ফেরত নিয়ে এসেছিলেন।’’

কোলাসোর আক্ষেপ, গোয়ার ফুটবলে ইয়ুথ ডেভেলপমেন্টের নামে এখন যা হচ্ছে তারই প্রতিফলনে এই ছবি। ৬৪ বছর বয়সী কোচ বললেন, ‘‘আই লিগ থেকে গোয়ার প্রথম সারির ক্লাবগুলো সরে যাওয়ার পর তাদের কোচিং ক্যাম্পগুলোতে ফুটবলার তৈরির চর্চা সঠিকভাবে হচ্ছে না।’’ কোলাসোর কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ, সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার সঙ্গে গোয়া ফুটবল সংস্থার সাম্প্রতিক বৈরিতা। বললেন, ‘‘এই কারণে বিশ্বকাপের আয়োজন পর্ব থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে গোয়া ফুটবল সংস্থাও। জানি না কে ভুল, কে ঠিক। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো একটা ইভেন্ট হচ্ছে গোয়ায়। অথচ, স্থানীয় আয়োজকদের মধ্যে জিএফএ নেই!’’ জাতীয় কোচ হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে খেলা দেখার টিকিট পাঠানো হয়নি! কোলাসো জানালেন, টিকিট কিনেই তিনি চেষ্টা করবেন ব্রাজিল-নাইজিরিয়া ম্যাচ দেখতে।

গোয়া ফুটবলের আরও এক কিংবদন্তি ব্রুনো কুটিনহোও ভাবতে পারছেন না, যে রাজ্য থেকে একসময় সবচেয়ে বেশি জুনিয়র ফুটবলারের উত্থান ছিল, সেই গোয়ার কোনও ফুটবলার নেই বিশ্বকাপ খেলা জাতীয় দলে। বুধবার গোয়া থেকে ফোনে তাঁর মন্তব্য, ‘‘প্রতিভাবান ফুটবলারও নেই। একইসঙ্গে জুনিয়র ফুটবলার তৈরি করার জন্য রাজ্যে যথাযথ পরিচর্যাও হচ্ছে না। দুইয়ের প্রতিফলনে আজ আমাদের এই দুর্দশা।’’

ভিডিও গ্যালারী

  ত্রিপুরা ফোকাস  । © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ত্রিপুরা ফোকাস ২০১০ - ২০১৭

সম্পাদক : শঙ্খ সেনগুপ্ত । প্রকাশক : রুমা সেনগুপ্ত

ক্যান্টনমেন্ট রোড, পশ্চিম ভাটি অভয়নগর, আগরতলা- ৭৯৯০০১, ত্রিপুরা, ইন্ডিয়া ।
ফোন: ০৩৮১-২৩২-৩৫৬৮ / ৯৪৩৬৯৯৩৫৬৮, ৯৪৩৬৫৮৩৯৭১ । ই-মেইল : This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.