ত্রিপুরা ফোকাস

No result ..

মহাসত্যের বিপরীতে (পর্ব-৮)

শ্যামল ভট্টাচার্য

মহাসত্যের বিপরীতে

আট. থোগাপার প্রতিশোধ ও কৈলাসপুত্রের জয়যাত্রা

গরব ভাবতো, কোনও ভাল গুরু পেলে সে একদিন থোগাপার মতন তান্ত্রিক হবে। তার প্রতি লাগস্পার সমস্ত অবিচারের প্রতিশোধ নেবে। গরবের মতন থোগাপারও ছিল এক অসহায় দুঃখিনী মা। তাঁর গল্পটি যদিও অন্যরকম। গৃহশিক্ষকের কাছে তাঁর গল্প শনেছে গরব।

১০৫২ খ্রিষ্টাব্দে তিব্বতের গুন থাং প্রদেশের কিয়াংসা উপত্যকায় থোগাপার জন্ম। পিতার নাম সেরাব গিয়ালৎসেন, মায়ের নাম কারমো কিয়েন, ছোট বোনের নাম পেতা আর বাগদত্তার নাম ছিল জেসে। তাঁর ঠাকুর্দা ছিলেন কবিরাজ আর বাবা একজন পাকা জুয়ারি। জুয়া খেলে একসময় তিনি খুব বড়লোক হয়েছিলেন। আবার এক ধূর্ত বহিরাগত জুয়ারির পাল্লায় পড়ে একদিন সর্বস্ব খোয়ান। তারপর ভিখিরির মতন ঘুরতে ঘুরতে দক্ষিণে হিমালয়ের পাদদেশে তীর্থযাত্রায় ভ্রমণরত ঠাকুর্দার শরণাপন্ন হন। তিনি আর কোনওদিন জুয়া খেলবেন না এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে ঠাকুর্দা আবার তাঁকে ব্যবসার জন্য মূলধন দেন। ঠাকুর্দার পরামর্শে সেই টাকায় তিনি দুগ্ধবতী গরুর পাল কিনে এনে পূর্বদেশে বেশিদামে বিক্রি করেন। সেই টাকায় ভেড়ার পাল কিনে মহানন্দে সেগুলিকে লালন করে সেগুলির পশম বেশিদামে দক্ষিণ তিব্বতের মানুষদের কাছে বিক্রি করে সেখান থেকে কমদামে তুলো কিনে উত্তর তিব্বতে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করেন। এভাবে সেরাব গিয়ালৎসেনের জীবনে আবার সুদিন আসে। তাঁর বাবা সুন্দরী ও বুদ্ধিমতী কণে কারমো কিয়েনের সঙ্গে বিয়ে দেন।

সেরাব গিয়ালৎসেনের দাদা-বৌদি ও অন্য ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা এই বিয়েতে খুশি হননি। থোগাপার শৈশবেই তার ঠাকুর্দা মারা যান। বাবার কাছে প্রতিজ্ঞা করে জুয়া ছাড়লেও মদ ছাড়েনি সেরাব গিয়ালৎসেন। সংসারেও তেমন মন ছিল না। কারমো কিয়েন ছিল তাঁর হাঁটুর বয়সী। সেজন্যেই হয়তো দুজনের মধ্যে ভাল বন্ধুত্ব হয়নি। আর মাত্র কয়েক বছর না কাটতেই মারা যান সেরাব গিয়ালৎসেন। তার মৃত্যুর পর থোগাপা ও তার মা জানতে পারে যে কারমো কিয়েনের বয়স কম বলে সেরাব গিয়ালৎসেন তার দাদা-বৌদিকেই বিষয় সম্পত্তির ভার অর্পন করে থোগাপা পরিণত বয়স্ক হওয়া পর্যন্ত তাদের দেখভালের দায়িত্ব লিখে দিয়ে গেছেন।

কিন্তু তার বাবার মৃত্যুর পর জেঠু ও জেঠিমা তাদের সমস্ত ধনসম্পত্তি কেড়ে নিয়ে তাদেরকে সেই প্রাসাদোপম বাড়ি থেকেও তাড়িয়ে দিলেন। নিরীহ কারমো কিয়েন কাঁদতে কাঁদতে মেয়েকে কোলে নিয়ে শিশুপুত্রের হাত ধরে রাস্তায় এসে দাঁড়ালেন। আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব যারা এককালে সেরাব গিয়ালৎসেন এবং তাঁর বাবার ছাতার তলায় পরগাছা ছিল তাঁরাও এ দৃশ্য দেখেও দেখলেন না। বাধ্য হয়ে কারমো কিয়েন ওইগ্রামের প্রান্তে তাদেরই একটি পুরনো জমি দেখভালের জন্য বানানো কুঁড়েঘরে থাকতে শুরু করেন। তাঁর স্বামীর দুয়েকজন মদের আড্ডার বন্ধু মাঝেমধ্যে লুকিয়ে তাদেরকে খাবার দিয়ে আসতেন।

কারমো কিয়েন শুধু কাঁদেন। মাত্র ষোল বছর বয়সে তিনি স্বামীহারা, তার ওপর নির্দয় আপনজনদের এই অত্যাচার; সব থেকেও তারা সর্বহারা! দু’দিন আগে যারা ছিল ধনী, আজ তারা পথের ভিখিরি! শিশুকন্যা আর ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি শুধু বারবার ফুপিয়ে কেঁদে উঠে বলেন, ‘হায় ঈশ্বর, হায় তথাগত!’ অগত্যা ছেলেমেয়েকে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোগাতে কারমো কিয়েন তখন প্রতিবেশিদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঠিকে কাজ শুরু করেন। যব পেষা, মাখন তোলা, সেলাই করা, বাসন ধোঁয়া, ঘর পরিস্কার করা, কুয়ো থেকে জল তোলা। ধীরে ধীরে দ্রুত কাজ করতে শিখে নিয়ে তিনি আরও বাড়িতে কাজ করতে থাকেন। রাতে বাড়ি ফিরে কুপির আলোয় ছেলেকে পড়ানোর পর রোজই বলতেন, তুইই আমার একমাত্র ভরসা, আমার আশার আলো, এত অত্যাচারের প্রতিশোধ তোকে নিতেই হবে!

থোগাপা বয়সে শিশু হলেও পরিস্থিতি তাঁর বয়স দ্রুত বাড়িয়ে দিচ্ছিল। তিনি চুপ করে মায়ের কথা শুনতেন, মায়ের কষ্টে তাঁর চোখ ছলছল করতো, তাঁর চোয়াল দৃঢ় হতো! আবার কোনওদিন মায়েছায়ে একসঙ্গে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে একসময় ঘুমিয়ে পড়তেন। তারপর প্রাথমিক পাঠ শেষ করেই কিশোর থোগাপা একদিন সত্যি সত্যি মাতৃআজ্ঞা শিরোধার্য করে আদরের বোন পেতা আর দুঃখিনী মাকে বিদায় জানিয়ে একটি খচ্চরের পিঠে চেপে পথে বেরিয়ে পড়েন উত্তর প্রান্তের কোনও এক নামী জ্ঞানী তান্ত্রিকের খোঁজে।

একাদশ শতাব্দীর তিব্বত! সেই সময় তাঁর সঙ্গে পথে দেখা হয় তারই মতন কোনও তন্ত্রগুরুর খোঁজে বেরিয়ে পড়া পাঁচ কিশোরের। তারা প্রত্যেকেই দামি ঘোড়ার পিঠে চেপে চারপাশ দেখতে দেখতে এগুচ্ছিলো। ওকে দেখতে পেয়ে তাদের মধ্যে একজন ভাঙ্গা ভাঙ্গা তিব্বতিতে জিজ্ঞেস করে, তুমি কি ভুটিয়া?

থোগাপা মাথা নাড়েন। তিনি বলেন, না আমি তিব্বতি।

ওর কথা শুনে আরেকজন হেসে বলে, -বাঃ, তুমিও আমাদের প্রত্যেকের মতোই ‘ত’ বাসী। থোগাপা বুঝতে না পারলে ওরা বুঝিয়ে বলে। ওরা পাঁচজন ভারতের ভিন্ন অঞ্চল থেকে এসেছে, তমলুক, তালপাড়া, ত্রিবেণী, ত্রিপুরা এবং ত্রিচূর; এই সবক’টা অঞ্চলের নামের আদ্যক্ষর ‘ত’ দিয়ে। তারা সবাই ভুটিয়াতেই কথা বলছিলো। ভুটিয়ার সঙ্গে থোগাপাদের স্থানীয় কথ্য তিব্বতির যথেষ্ট মিল থাকায় সে অনায়াসে তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারে। এদের মধ্যে ত্রিপুরার ছেলে ডোম্বীপার সঙ্গে থোগাপার চেহারার মিল রয়েছে। কিন্তু বাকিদের নাক উঁচু, বড় বড় চোখ – অন্যরকম।

ওরা পরস্পরকে সাহায্য করে সাবধানে খরস্রোতা সাংপো নদ পার হয়। সেই সময় তিব্বতের সর্বত্র তন্ত্রচর্চা চলে। তাই সবখানে তান্ত্রিকের ছড়াছড়ি। তাদের মধ্য থেকে উপযুক্ত গুরু খুঁজে পাওয়া একমাত্র পূর্বজন্মের কর্মফল ছাড়া সম্ভব নয়। কিন্তু এই ছয় কিশোরের মিলিত কর্মফলেই হয়তো তাঁরা মহান লামা ইয়ংতুন ত্রোগ্যালের কাছে পৌঁছে যান। একটি বিশাল ফুলের বাগানের মাঝে একটি বাড়িতে তিনি থাকতেন।

ওই ছয় কিশোর নিজেদের সততা, আচার-ব্যবহার ও সেবায় সন্তুষ্ট করে তন্ত্রবিদ্যা শিখতে শিখতে ক্রমে যুবক হয়ে ওঠে। হাতে হাতে সবকাজ করতো বলে তাদের বন্ধুত্বও বেশ প্রগাঢ় হয়। তাদের মধ্যে ত্রিপুরার ডোম্বীপার সঙ্গে থোগাপার সম্পর্ক সবচাইতে বেশি নিবিড় হয়। তাঁর কাছেই থোগাপা প্রথম জ্যাঠা জ্যাঠির নিষ্ঠুরতার কথা বলতে বলতে কেঁদে ভাসায়। তাঁর কথা শুনে ডোম্বীপাও তাঁর মায়ের মতোই হিসহিসিয়ে বলে, তোকে এই অত্যাচারের প্রতিশোধ নিতে হবে...নিতেই হবে।

গুরু লামা ইয়ংতুন ত্রোগ্যাল বলেছিলেন, সাবধান, এই তন্ত্রবিদ্যা দিয়ে কোনও ভাল মানুষের ক্ষতি করিস না!

থোগাপা বন্ধু ডোম্বীপার পরামর্শে বলীয়ান হয়ে জ্যাঠা-জ্যাঠির উপর প্রথম আঘাত হানে একটি বিয়ের উৎসবের সময় তাদের প্রাসাদে বজ্রপাত করে, আর তারপর পরিষ্কার আকাশ থাকা সত্ত্বেও পাকা ফসলের ক্ষেতে শিলাবৃষ্টি করে। এভাবে জ্যাঠার পরিবারও ভিখিরি হয়ে পথে নামলে সে বাড়ি ফিরে এসব দেখে বেশ খুশি হয়। বন্ধু ডোম্বীপাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিল। তাঁদের চোখের সামনে বেশ ধুমধাম করে ডোম্বীপার সঙ্গে একমাত্র বোন পেতার বিয়ে দেয়। ডোম্বীপা ছিলেন ত্রিপুরার রাজার ছেলে। খুব সুন্দর কবিতা লিখতেন। পেতাকে তিনি দেশে ফিরে রাজরানী করেছিলেন।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে গুরুর আদেশ অমান্য করে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য অনুশোচনায় থোগাপা প্রায়শ্চিত্য করেন। তারপর গুরু মার্পার শিষ্যত্ব গ্রহণ করে হয়ে ওঠেন তিব্বতে তন্ত্রসাধকদের চূড়ামনি গুরু মিলারেপা।

গরব যখন নিশ্চিত হয় যে লাগস্পা তার বাবা নয়, তার মনে লাগস্পার বিরুদ্ধে আর কোনও ক্ষোভ থাকে না। সে শুধু গোলামী থেকে মুক্তি চেয়েছিল। তাই সে নাগপোকে নিয়ে পালিয়েছে।

এই মুহুর্তে তার কোনও উদ্দেশ্য নেই, তার কোনও পরিকল্পনাও নেই। এই পালিয়ে মুক্তির স্বাদ পাওয়ার যাত্রা গতরাতে শুরু হলেও মনে মনে সে অনেকদিন আগে থেকেই পালানোর কথা ভেবেছে। যেদিন গৃহশিক্ষকের কাছে তার প্রশংসা শুনে লাগস্পা তার পড়া ছাড়িয়ে দিয়েছিল সেইদিন থেকেই প্রায় প্রতিদিন সে পালানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। লাগস্পার আস্তাবলের সেরা ঘোড়া এই নাগপোকে সে-ই ছোটবেলা থেকে লালনপালন করেছে। কিন্তু যেদিন থেকে আস্তাবল আর গোয়ালের কাজ পেয়েছে সেদিন থেকে সে নাগপোর আদর যত্ন আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল একদিন তাকে নিয়ে পালাবে বলেই।

দীর্ঘদিন আগেই অবচেতনে শুরু হওয়া এই যাত্রা অবশেষে বাস্তবে পরিণত হওয়ায় সে কোনদিকে যাবে তা ঠিক করতে পারে না। যেদিকে দু’চোখ যায় ঘোড়া চালিয়ে ছোটবেলার গ্রাম থেকে যত দূরে যাওয়া যায় শুধু সেই চেষ্টাই করে যায়। তাকে আরও অনেক দূর যেতে হবে। কিন্তু সে যেদিকেই যাবে নিজের মর্জিমতন যাবে। এখন এই ঘোড়া ছাড়া এই পৃথিবীতে ওর আর কেউ নেই।

এখন লাগস্পার মনে কী চলছে তা অনুভব করার চেষ্টা করে গরব। লাগস্পা নিশ্চিতভাবেই ভাববে যে তার বাড়ির মৃতা দাসীর ছেলেটির হাতে যেহেতু টাকা-পয়সা নেই সে প্রথমে ঘোড়াটি বিক্রি করে টাকা জোগাড় করতে চাইবে। সেই ঘোড়া বিক্রি করতে তাকে যেতে হবে নিকটবর্তী বড় চীনা বাজারে। গরব যে কাজ চালানোর মতন চীনা ভাষা জানে তা লাগস্পার জানা আছে। এলাকায় মোতায়েন চীনা সৈন্যদের সঙ্গে মেলামেশা করে সে ভাষাটি শিখেছে। চীনাদের সঙ্গে কথা বলতে তার কোনও তর্জমাকারীর প্রয়োজন পড়ে না। লাগস্পা একথা জানে বলেই সে নিশ্চয়ই দার্তসিদোগামী হাইওয়েতে তল্লাশি অভিযান চালাবে। গরব জানে, চীনদেশের মানচিত্রে সেচুয়ান প্রদেশের পশ্চিমপ্রান্তের এই শহরটির নাম লেখা রয়েছে তাচিয়েলু। গরব সে পথে পা না বাড়িয়ে উত্তরমুখী অরণ্যপথকে বেছে নেয়।

সত্যি সত্যি গরবের কাছে কোনও টাকা নেই। কিন্তু তার ঘোড়ার জিন সংলগ্ন থলে দু’টিতে শুকনো মাংস, সাম্পা, মাখন আর চা এতটাই রয়েছে যে তার সপ্তাহখানেক চলে যাবে। ওর হাতে অনেকটা সময় রয়েছে। ততদিনে সে লাগাস্পার থেকে যতটা সম্ভব দূরে চলে যাবে।

দিনরাত দু’দিন ঘোড়া চালানোর পরই সে পাহাড়ের গা বেয়ে চলতে থাকা এই অজানা পথে পৌঁছে যায়। তারপর থেকে গত তিনদিন পার্বত্য অরণ্য পথে সারাদিন ঘোড়া চালিয়ে রাতে বিশ্রাম নিয়েছে। কেননা রাতে পথ দেখা যায় না। কোনও ঝর্ণার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দু’জনেই জল খায়। বিশ্রামের সময় পেট ভরে ঘাস খায় নাগপো। এই কালো ঘোড়াটির বয়স মাত্র বছর চারেক। লাগাস্পার আস্তাবলেই জন্ম এটার। এই নাগপোর সমস্ত দামালপনার সঙ্গী ছিল গরব। সে-ই ওকে পোষ মানিয়েছে – লালনপালন করেছে।

কিশের বয়সে প্রত্যেক মানুষই কাউকে ভালোবাসতে চায় আর ভালোবাসা পেতে চায়। গরবের জীবনে নাগপো সেই প্রাণীটি। গরবের মা ছিলেন সহজ, সরল, ভীরু প্রকৃতির মানুষ। ছেলেকে অনেক ভালোবাসলেও তিনি কখনও কথায় বা আচরণে তা প্রকাশ করতেন না। কিন্তু ওই কিশোর বয়সে গরব ছিল ভালোবাসার কাঙাল। লাগাস্পা দয়ালু মনিব হলেও সে ভীষণ স্বার্থপর। কিন্তু নাগপোর ভালোবাসা ছিল নিখাদ। সে গরবের গায়ে হাতে চেটে দিত, ওর বুকে নাক ঘষতো। সেজন্যে গরব ওকে যতটা ভালোবাসে ফেলে তা কোনও মানুষকে পারেনি। ঘরপালানো যুবক আর চুরি করা ঘোড়াটির মধ্যে এই অসাধারণ বন্ধনই ওদেরকে দূরে, আরও দূরে নিয়ে চলে। এখন পেটের দায়ে নাগপোকে বিক্রি করার কথা ভাবলেই গরবের বুকটা কেমন মোচড় দিয়ে ওঠে। রাতে কোনও প্রাকৃতিক কারণে ঘুম ভেঙে গেলে সে উঠে গিয়ে খুঁটিতে বাঁধা নাগপোর গলা জড়িয়ে গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে, চুমু খায়। দিনে চলতে চলতে ক্লান্ত হলে কোনও ঘন ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে বসে খাওয়া-দাওয়া করে। তারপর আবার পথ চলা।

তবুও ওর খাবার শেষ হয়ে গেলে নাগপোকে বিক্রি করা ছাড়া আর কোনও পথ থাকবে না। এ দামি ঘোড়ায় চেপে তো কেউ ভিক্ষে চাইতে পারে না। তার কাছে অবশ্য একটি ধার চোক রয়েছে। প্রবজ্যা হলে অবশ্য তিব্বতের যে কোনও প্রান্তের যে কোনও বাড়িতে গিয়ে দাঁড়ালে কেউ বিমুখ করবে না। আর হাতে ‘ধার চোক’ থাকলে তো কথাই নেই। তিব্বতী ভাষায় এর মানে প্রার্থনা ধ্বজা। ‘ধার’ মানে জীবন, সৌভাগ্য, স্বাস্থ্য আর ধনবৃদ্ধি আর ‘চোক’ মানে সমস্ত প্রাণী। তিব্বতী বিশ্বাস, এআ প্রার্থনা ধ্বজ বাতাসের প্রাকৃতিক জ্বালানি দিয়ে শান্তভাবে পরিবেশের সরগমকে অনুকূল আর সমস্ত সজীব প্রাণকে আনন্দ এবং সৌভাগ্য এনে দেয়।

‘ধার চোক’ এ আঁকা মন্ত্র ‘ওম মণি পদ্মে হুম’ এর ছয় শব্দাংশের অর্থ হলো যোগ আর জ্ঞানের অভিন্ন মিলনের আধারে সাধনা করতে করতে কেউ নিজের অপবিত্র শরীর, কথা আর মস্তিষ্ককে ভগবান বুদ্ধের মতন পবিত্র শরীর, বাণী আর মস্তিষ্কে রূপান্তরিত করতে পারে। বুদ্ধত্ব অর্জন করতে কোনও বাইরের উপাদানের সন্ধান করতে হবে না, নিজের ভেতরে সঞ্চিত তত্ত্ব-সমূহের সঠিক উপযোগেই তা অর্জন করা সম্ভব।

গৃহশিক্ষকের কাছে শেখা এই কথাগুলি কানে বাজে। এসব ভাবলে তার চোখে জল চলে আসে। তবুও গৃহশিক্ষকের কথামতনই পথে বেরুনোর আগে একটি ‘ধার চোক’ সঙ্গে নিতে ভোলেনি গরব। এই পতাকা হাতে নিয়ে কেউ বাড়িতে এলে অন্তত একবেলা সসম্মানে পেট ভরে খাইয়ে দক্ষিণা সহ অতিথি বিদেয় করাই তিব্বতের রীতি।

এই পথ কোথায় যাচ্ছে তা-ও জানে না গরব। প্রধান সড়ক এড়িয়ে অনেক দূর দিয়ে চলছে বলে পথে দু’টো মাত্র গ্রাম দেখেছে সে। সেই গ্রামগুলিতে না ঢুকে সে পাশের জঙ্গলের পথ ধরে এগিয়ে গেছে। চলতে চলতে বারবার চোয়াল শক্ত হয় তার। কোনওভাবেই সে আর কারও গোলামি করবে না। নিতান্ত বাধ্য হলে নাগপোকে বিক্রি করে সেই টাকায় কোনও ছোটো ব্যবসা শুরু করবে। কিন্তু যতক্ষণ সম্ভব সে নাগপোকে কাছ ছাড়া করতে চায় না। কিন্তু ঘর ছেড়ে বেরুনোর পর পাঁচদিন পেরিয়ে গেলে এই ভাবনার টানাপোড়েন আর ক্রমাগত দিশাহীন যাত্রা তার মুক্তির আনন্দকে ক্রমে মেঘাচ্ছন্ন করতে শুরু করে। ষষ্ঠদিন ভোরে গরব একটি বৃক্ষ গুল্মহীন ন্যাড়া পার্বত্য এলাকায় ঢুকে পড়ে। কিছুক্ষণ যেতেই সে হঠাৎ দেখে দূর থেকে ছ’জন অশ্বারোহী দ্রুতবেগে ওর দিকে ঘোড়া ছুটিয়ে আসছে। গরব তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় দিয়ে বুঝতে পারে – এরা ডাকাত। নিজের অজান্তেই একটা অজানা ত্রাস তাকে থামিয়ে দেয়। আশেপাশে কোনও বসতি কিংবা আড়াল নেই যে সে দ্রুত লুকিয়ে পড়বে। আর ডাকাতরা যখন দেখেই ফেলেছে লুকিয়ে খুব একটা লাভও হবে না। গরব ঘোড়া থামায়। ভয়ে ওর বুক কাঁপতে শুরু করে।

তখুনি ওর মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে যায়। ওর দিকে দ্রুত ছুটে আসা মানুষগুলির মধ্যেই সে তার ভবিষ্যৎ দেখতে পায়। সে অনুভব করে, এই মুহূর্তে তার দিকে দ্রুত ছুটে এগিয়ে আসছে তার ভবিষ্যৎ।

একথা ভাবতেই একটা অদ্ভুত শিহরণ সাআ শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি তার শিহরণ নাগপোর শরীরেও ছড়িয়ে পড়ে। সে-ও একবার কেঁপে ওঠে। সে আবার শিহরিত হয়। অথচ বুকের ধুকপুকানি তখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। অনেক কষ্টে সে নিজেকে শান্ত রাখে। উদ্ধতভাবে পথ আগলে দাঁড়ানোর ভঙ্গিতে নাগপোকে আড়াআড়ি পা ফাঁক করে দাঁড় করিয়ে সে জোর করে মুখে তির্যক হাসি আনার চেষ্টা করে। ততক্ষণে সেই ছয় অশ্বারোহী ওর একেবারে সামনে এসে পড়ে। ওদের সর্দার বাজখাই আওয়াজে চেঁচিয়ে বলে, নেমে দাঁড়া, ঘোড়াটা দে, আর প্রাণের ভয় থাকলে টাকা-পয়সা লুকোনোর চেষ্টা করবি না।

গরব তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলে, আমি ঘোড়া থেকে না নামলেই তোদের মঙ্গল। এখন আমার কাছে কোনও টাকা-পয়সা নেই, তবে আমাকে সঙ্গে নিলে ভবিষ্যতে উপার্জন করে দিতে পারি বন্ধু।

তারপর একে একে ছ’জনের আগাপাশতলা দেখে চিবিয়ে চিবিয়ে বলে, আমি তোদেরই অপেক্ষায় ছিলাম।

ডাকাতর ওর ঔদ্ধত্য দেখে থ। কে এই যুবক? ওদের সর্দার জিজ্ঞেস করে, কোথা থেকে আসছিস?

গরব চোয়াল শক্ত করে বাঁকা হেসে বলে, সাহসীরা এ ধরনের প্রশ্ন করে না।

- এই ঘোড়াটি তোর নিজের ?

- তোদের ঘোড়াগুলি যতটা তোদের, এটিও তেমনি।

- চুরি করেছিস ?

- যদি বলি দখল করেছি, অথবা কেড়ে নিয়েছি।

ওর কথা শুনে দস্যুরা অট্টহাস্যে ফেটে পড়ে। ওদের সর্দার বলে, বাঃ তুই বেশ রসিক তো, আর কী বললি আমাদের অপেক্ষায় ছিলিস ?

- বললাম তো, আমি ডাকাবুকো সঙ্গী চাই, অবশ্য জানি না তোরা আদতে কতটা সাহসী।

- তুই বেশ লম্বা চওড়া মজবুত গড়নের ছেলে, কিন্তু বয়সটা খুবই কম, আগে কোনও অভিযানে গেছিস?

- কাজের সময় দেখতে পাবি, আমি কতটা পারি।

- মানে, তুই আমাদের দলে ঢুকতে চাস, - একজন অজানা, অচেনা-

- আমার কাছে ভালো চা আছে, চল্ আগুন জ্বালিয়ে, চা বসিয়ে কথা বলি, চা খেতে খেতে পরস্পরকে জানি।

দস্যুরা এই অকুতোভয় যুবকটিকে দেখে অবাক। ওরা ভাবে, এ নিশ্চয়ই অন্য অঞ্চলে অভিযান চালানো কোনও ডাকাত দলের সদস্য ছিল, যে দল ভেঙে যাওয়ায় বা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে মনোমালিন্যের কারণে দল ছুট হয়েছে। বয়স কম হলেও এমন হাট্টাকাট্টা শরীর আর ডাকাবুকো ছেলেটির নির্ঘাৎ ডাকাতির অভিজ্ঞতা রয়েছে।

নিজের জঅবন এবং অভিযানের বৃত্তান্ত সম্পর্কে একটি শব্দ উচ্চারণ না করলেও চা খেতে খেতে ওর কথা বলার ঢঙ, চোখে চোখ রেখে তাকানো আর বেপরোয়া শরীরী ভাষা ডাকাত সর্দার ও তার সঙ্গীদের মুগ্ধ করে। এরা পাতি লুটেরা। তীক্ষ্নধী গরবের সঙ্গে ওদের সীমিত জ্ঞানগম্যির কোনও তুলনা হয় না। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওরা তাকে দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানায়।

গরব তেমন কোনও আগ্রহ না দেখিয়ে ওদের প্রস্তাবে সায় দেয়। সে জানে এবার নাগপোকে আর কাছছাড়া করতে হবে না। এখন শুধু সুযোগের অপেক্ষা আর একবার সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারলেই কেল্লাফতে। একজন ডাকাত তাকে নিকটবর্তী পাহাড়ি গ্রামে নিয়ে গিয়ে নিজের বাড়িতেই থাকতে দেয়।

গরবকে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে ডাকাতদের এই তাড়াহুড়োর কারণটি ওরা না বললেও কিছুক্ষণের মধ্যেই গরব তা ভালোই বুঝতে পারে। ৬-৭ দিন পরেই ওই পথ দিয়ে একটি বড় অভিযাত্রী দলের যাওয়ার কথা। সেই দলকে আক্রমণ করতে নিজেদের শক্তিবৃদ্ধির চাহিদা রয়েছে। ওরা গরবকে একথা লুকায়নি।

কাজেই গরবকে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি। ডাকাতদলে যোগ দেওয়ার সপ্তাহখানেকের মধ্যেই অসাধারণ বউনি করে সে। অভিযাত্রী দলের প্রতি ওর ক্ষমাহীন রুক্ষ ব্যবহার আর একরকম হাসতে হাসতে ওদের প্রায় সর্বস্ব কেড়ে নেওয়া, নিজের যোগ্যতা প্রমাণের বাধ্যতা ক্রমে ওকে দলের মধ্যে বিশিষ্ট হয়ে উঠতে সাহায্য করে। পরবর্তী সময়ে সে এই বিপজ্জনক পেশাকে পছন্দ করতে শুরু করে।

পরপর তিনটি সফল অভিযানে সে ব্যক্তিগতভাবেও বেশ সম্পদশালী হয়ে ওঠে। কিন্তু কিছুদিন পরই তার অস্বস্তি শুরু হয়। সে দলের অন্য ডাকাতদের বলে, - ধ্যাৎ, তোদের এখানে কাজ করে মজা নেই। এ পথে অনেক কম অভিযাত্রী আসে। চল, আমরা হলুদ নদীর উৎসের দিকে যাই। ওদিক দিয়ে অনেক বেশি অভিযাত্রী যায়।

আসলে সে মনে মনে ছোটোবেলার গ্রাম থেকে আরও দূরে যেতে চায়। কিন্তু দলের কেউই নিজেদের এলাকা ছেড়ে ওর সঙ্গে যেতে রাজি হয় না।

ওরা কেউ-ই দুঃসাহসী নয়, প্রত্যেকেরই পিছুটান রয়েছে। তাই গরব একাই আবার নিজের টাকা-পয়সা, বন্দুক আর নাগপোকে নিয়ে একদিন হলুদ নদীর উৎসস্থলে পৌঁছে যায়। সেখানকার দস্যুদের লোকেরা অবশ্য গরবের পরিচয় আগে থেকেই জানতো। পূর্ববর্তী তিনটি অভিযান-র সাফল্য তাকে এই খ্যাতি এনে দিয়েছে। ওরা সবাই মূলত কৃষক ঘরের অভিযানপ্রিয় যুবক। গরব দ্রুত সমস্ত সন্দেহ কাটিয়ে ওদের হৃদয় জিতে নেয়।

পরবর্তী তিনবছর উত্তর তিব্বতের শুষ্কভূমিতে ধনী মঙ্গোলিয়ান এবং চিনা বণিকদের অভিযাত্রী দলগুলির উপর একের পর এক আক্রমণ হেনে তারা অভূতপূর্ব সাফল্য পায়। সাহস আর আক্রমণের পারদর্শিতা তাদের অপ্রতিরোধ্য করে তোলে। ফলে তারা বেশ সম্পদশালী হয়ে ওঠে। বেশ কয়েকটি সমতল গ্রামে অনেকটা নিজস্ব তাঁবু আর অসংখ্য গবাদি পশু এবং ঘোড়ার মালিক হয়ে ওঠে। তার কুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এমন কি চিন, মঙ্গোলিয়া, তাকলামাকান মরুভূমি পর্যন্ত রেশম পথের প্রায় সমস্ত জনপদে।

তারপর আসে সেই ভয়ংকর দিন। ওদের কাছে পৌঁছানো সংবাদ অনুসারে ওরা যে ব্যবসায়ী দলটিকে আক্রমণ করে তাদের সঙ্গে সশস্ত্র রক্ষীর সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। আসলে সুরক্ষার খাতিরে দুটো অভিযাত্রী দল একসঙ্গে মিলে যাত্রা করেছিলো। কিন্তু দ্বিতীয় দলটির খবর ডাকাত দলের কাছে ছিল না। ফলে ডাকাতির সময় রক্ষীবাহিনী গুলি চালায়। গুলি বিনিময়ে চারজন ডাকাতের তৎক্ষণাৎ মৃত্যু হয়, অন্য অনেকে বেশ জখম হয়। তাদের সর্দারের বুকে গুলি লাগায় সে ঘোড়া থেকে পড়ে ছটফট করতে করতে নিথর হয়ে পড়ে। ডাকাত দল ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে।

অকুতোভয় গরব ওদের সঙ্গে সামান্য পিছিয়ে দ্রুত সবাইকে একত্রিত করে বোঝায় লুটের মাল কত মহার্ঘ, তাছাড়া তাদের সর্দার ও সহযোদ্ধাদের হত্যার বদলা নিতে হবে। এভাবে দলের সবাইকে তাতিয়ে সে দলটাকে দু’ভাগে ভাগ করে দুই কোণ থেকে সাড়াশি আক্রমণ হানে। তারপর ওরা ব্যবসায়ী দলটিকে উপর্যুপরি গেরিলা আক্রমণে পর্যদুস্ত করে সমস্ত রক্ষীকে মেরে ফেলে। দু’দিন ধরে এই লড়াই চলে প্রায় চার কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে। অবশেষে ব্যবসায়ীদের সর্বস্ব লুট করে ছেড়ে দেয়।

সেদিন ডেরায় ফিরে ওরা প্রত্যেকেই আকন্ঠ মদ গিলে ঘুমিয়ে পড়ে। পরদিন লুটের মাল ভাগ-বাটোয়ারা করার আগেই দলের সবাই একসঙ্গে বসে সর্বসম্মতিক্রমে গরবকে তাদের নতুন দলপতি বেছে নেয়।

ওকেই দলপতি বাছার মূল কারণ হয়তো দলের সামনে সে যেমন সাহস, সংগঠন ক্ষমতা আর অভিনব রণকৌশল প্রদর্শন করেছে তা থেকেই সে অধিকাংশ দস্যুর মনে প্রাকৃতিকভাবেই দলপতির আসন দখল করে নিতে পেরেছিল।

নতুন দলপতির অধীনে দলটা যেন অনেক সংহত এবং তীব্র আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। এই আক্রমণের তীব্রতা অভিযাত্রীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে ফেলায় তারা সহজেই অত্মসমর্পণ করতো। আই কোনও রক্তপাতের প্রয়োজনই পড়তো না। আর একবিন্দু রক্ত না ঝরিয়েও তারা হলুদ নদীর উৎসস্থলের কাছাকাছি থেকে উত্তর তিব্বতের শুষ্কভূমিতে রেশম পথের বিভীষিকা হয়ে ওঠে। তারপর একদিন সেই বিশাল দলটিকে আক্রমণ করে তারা অনেক লাভবান হয়।

আর তারপরই এই প্রথম ওদের পথ আগলে দাঁড়ায় এক নিরস্ত্র তরুনী। দু’হাত প্রসারিত করে থামিয়ে দেয় ডাকাত দলটিকে। সেই মেয়েটি নাকি ছোটোবেলা থেকেই স্বপ্নে এক ঘোড়সওয়ারকে দেখতো। তাকে পাওয়ার জন্যেই ঘর ছেড়ে পালিয়েছে সেই উদ্বিগ্নযৌবনা। অবশেষে সেদিন কালো নাগপোর পিঠে গরবকে দেখে চিনতে পারে – সে-ই তার স্বপ্নের ঘোড়সওয়ার।

সেই মেয়েটির নাম দেচমা। সে আর গরবের কাছছাড়া হতে চায় না। তার তীব্র প্রেমের জোয়ারে ভেসে বদলে যেতে থাকে দোর্দণ্ডপ্রতাপ এক দস্যুসর্দার। ক্রমে সে হয়ে উঠতে থাকে প্রেমিক। কাম ও তীব্র আশ্লেষ থেকেও অনেক গভীর এই প্রেমের হাতছানি – যাকে শুধু খরস্রোতা হলুদ নদীর সঙ্গে তুলনা করা যায়। এই প্রেম নাকি অদৃষ্টের পরিহাসে বদলে হলুদ নদীর উৎসমুখের দস্যুদের জীবনের গতিপথ। একদল দস্যুকে বণিকের ছদ্মবেশে সঙ্গে নিয়ে গরব ও দেচমা গিয়ে পৌঁছায় তিব্বতের রাজধানী লাসা শহরে। লুটের সামগ্রী বিক্রি আর দলাই লামার দর্শন – এই দুই উদ্দেশ্য নিয়ে। 

  ত্রিপুরা ফোকাস  । © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ত্রিপুরা ফোকাস ২০১০ - ২০১৭

সম্পাদক : শঙ্খ সেনগুপ্ত । প্রকাশক : রুমা সেনগুপ্ত

ক্যান্টনমেন্ট রোড, পশ্চিম ভাটি অভয়নগর, আগরতলা- ৭৯৯০০১, ত্রিপুরা, ইন্ডিয়া ।
ফোন: ০৩৮১-২৩২-৩৫৬৮ / ৯৪৩৬৯৯৩৫৬৮, ৯৪৩৬৫৮৩৯৭১ । ই-মেইল : This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.