ত্রিপুরা ফোকাস

সাহিত্যের পাতা

অমলেন্দু চন্দের কবিতা

দূর ছাই

মাঝে মাঝে অন্দরে ঘুলঘুলি জানালাগুলো
পাল্লার নড়বড়ে বিচ্ছিরি আওয়াজ তুলে প্রশ্ন করে -
কি চাই কি চাই কাকে চাই কিছু চাই - দূর ছাই,
বুঝে যাই - আমি আজ আমার ভেতরে নেই

ঘরের কোনেতে আধা আবছায়া উঠোন বারান্দায় ছাউনির নীচে
অজত্নে পড়ে থাকা মালাধুপ টুকরো টুকরো শরীরের ঘ্রান
সাদামাটা ক্ষিধে তেষ্টা ইচ্ছে লোভ মাসমাইনে 
অবেলা তুফান - সব নিয়ে এক অঘোরী পাণ্ডুলিপি
আর আমি সেই এক বিনীত মোমবাতি 
মাঝে মাঝে জানালায় ডাক শুনি -
কি চাই কি চাই কাকে চাই কিছু চাই -

দূর ছাই!

Read more...

সান্ডে-মান্ডের আত্ম-কাহিনী

অরিন্দম নাথ, ত্রিপুরা

আমার নাম রবি সোম ৷ আমি সতেরো পেরিয়ে আঠারোতে পড়েছি ৷ আমাকে সবাই সান্ডে-মান্ডে বলে ডাকে ৷ আমার বাবার নাম মঙ্গল সোম ৷ তিনি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ৷ মঙ্গল কারো পদবি হয় বলে শুনিনি ৷ তাই তার একটিই নাম মঙ্গলদা ৷ ছেলে বুড়ো নির্বিশেষে তাকে মঙ্গলদা বলেই ডাকে ৷ তিনি একজন রাজনৈতিক কর্মীও বটে ৷ তবে রাজনৈতিক কর্মী না বলে নেতাদের চামচা বা অন্ধ সমর্থক বলাই শ্রেয় ৷ এতে তার যথেষ্ট ফায়দা হয়েছিল ৷ যখন তার দল ক্ষমতায় ছিল ৷ তিন তখন প্রচুর কামিয়েছিলেন ৷ কিন্তু মদের প্রতি আসক্তি এবং সঙ্গদোষের কারণে তিনি এসব ধরে রাখতে পারেন নি ৷ তার ছিল দুই সংসার ৷ আমার মা ময়না সোম তার দ্বিতীয় পক্ষ ৷ মা একটি সরকারী দপ্তরের করণিক ৷ আমাকে স্বীকার করতেই হবে যে মায়ের চাকুরীর পেছনে বাবার যথেষ্ট অবদান ছিল ৷ আমার সৎ-মা নন্দা সোমের কোনও ছেলে-মেয়ে নেই ৷ কয়েক বছর আগে নন্দা সোম খুন হন ৷ এই ঘটনা আমার জীবনের গতি-রেখা আমূল পাল্টে দেয় ৷ এই বিষয়ে বলার আগে আমার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে কিছু বলি ৷ আমার একটি ছোট ভাই আছে ৷ তার নাম বুদ্ধ ওরফে বিভু ৷ বিভুর ছোট আমার একটি বোন রয়েছে ৷ তার নাম কাবেরী ৷ আমরা পৃথিবীতে এসেছি গড়ে দু`বছর পর পর ৷ আমার মায়ের বয়স তিরিশ পেরিয়ে চল্লিশ ছুঁই ছুঁই ৷ এই বয়সেও মা অসাধারণ সুন্দরী ৷ অনেক সময় আমার অবাক লাগে, মা আর বোনের মধ্যে কে বেশী সুন্দরী ৷ তারা দুজনে আসলে একে অপরের কার্বন কপি৷ গায়ের রং ছাড়া বিভু কিংবা আমি বাবার কোনও বৈশিষ্ট্য পাই নি ৷ আমার বাবা দেখতে খাটো, কিছুটা পেট মোটা ৷ আর, আমরা দু`ভাইই ছিপছিপে লম্বাটে গড়নের ৷ স্কুলে পড়ার সময় আমরা জিমনাস্টিক শিখতাম ৷ সেটা হয়তো আমাদের দেহ-গঠনে সাহায্য করেছে ৷

Read more...

প্রবাসের চিঠি:বিদেশ বিদ্বেষ

- জবা চৌধুরী, আটলান্টা

তখন পৃথিবীটা অতো ছোট ছিলো না। 'বিদেশ' শুনলেই কতো কী অজানা চিন্তা মাথায় ভিড় করে আসতো । ও বাবা ! সাত সমুদ্র পেরোনো কী চাট্টিখানি কথা? তাই আমাদের বন্ধুদের 'জীবন যেমন চলছে চলুক' গ্রূপে বিদেশ নিয়ে কথাবার্তা তেমন একটা এগোতো না কখনই। বেশির ভাগ সময় আমিই 'বিদেশ' সংক্রান্ত আলোচনায় যবনিকা টানতাম। আসলে আমাদের ছোট্ট শহর আগরতলা আমার খুব প্রিয় শহর l ওই জায়গাটি থেকে নিজেকে সরাবার কথা ভাবতেই পারতাম না। কলেজের দিনগুলো পেরোতেই প্রথম হোঁচট খেলাম... আমি যে বিষয়টি নিয়ে পড়াশোনা করছিলাম সেটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন পড়াতো না। অগত্যা কলকাতা যাবার কথা ভাবতে শুরু করতে হলো খুব দুঃখিত মন নিয়ে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া ঠিক হলো। ক্লাস শুরু হবার ক'দিন আগে আমি লেক গার্ডেন্স এ এক মাসির বাড়িতে ক'দিন থাকবো ঠিক হলো। বিকেলের এক ফ্লাইটে মাত্র চল্লিশ মিনিটে চলে এলাম কোলকাতায়। সন্ধ্যেবেলা চা, স্ন্যাক্স আর আড্ডার জমজমাট আসর বসলো মাসির বাড়ির ছাদে। বেশ চলছিল খুশি খুশি ...কিন্তু এমনি সময়ে একটা প্লেন উড়ে গেলো আমাদের মাথার ওপর দিয়ে।

Read more...

  ত্রিপুরা ফোকাস  । © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ত্রিপুরা ফোকাস ২০১০ - ২০১৭

সম্পাদক : শঙ্খ সেনগুপ্ত । প্রকাশক : রুমা সেনগুপ্ত

ক্যান্টনমেন্ট রোড, পশ্চিম ভাটি অভয়নগর, আগরতলা- ৭৯৯০০১, ত্রিপুরা, ইন্ডিয়া ।
ফোন: ০৩৮১-২৩২-৩৫৬৮ / ৯৪৩৬৯৯৩৫৬৮, ৯৪৩৬৫৮৩৯৭১ । ই-মেইল : This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.