ত্রিপুরা ফোকাস

No result ..

সাহিত্যের পাতা

ফেরোমোন ট্র্যাপ

জায়েদ ফরিদ

ফেরোমোন ট্র্যাপ
কয়েক যুগ আগের ঘটনা। বিকেল বেলা প্রায়ই ঢাকার ধানমণ্ডি লেকের পাড় দিয়ে হাঁটি। কোনো কিছু দৃষ্টি এড়ায় না, মাছ ধরা থেকে শুরু করে রাস্তার পাশে চারণ কবিরাজের জড়িবুটি বিক্রি পর্যন্ত। রাস্তার ধার ঘেঁষে লাইন ধরা কিছু কাষ্ঠল গাছ, এক-দেড় মানুষ লম্বা। সে গাছে ঝুলছে বুনো আমড়ার মতো কিছু ফল, রংটা ময়লা সাদা। কৌতূহলবশে কয়েকটা ফল পেড়ে নিলাম, ভেতরটা ঘট ঘট করছে, মনে হলো ফলের ভিতর বীচি আছে। বাড়ি পৌঁছে সেগুলো পুরাতনফুলবাড়িয়া রেলস্টেশনের ধার থেকে কেনা বেতের সুটকেসে ঢুকিয়ে রাখলাম।

Read more...

মহাসত্যের বিপরীতে (পর্ব-৩)

শ্যামল ভট্টাচার্য

মহাসত্যের বিপরীতে

তিন. সিনদোংমার অভিসার

প্রত্যেক সম্পর্ক মানুষের জীবনে ভিন্ন মাত্রাবহ। ঘাসের উপর বিছানো কম্বলে এবারের সঙ্গিনীর সঙ্গে মিলনের অভিজ্ঞতা এতই অভিনব যে দলপতি অবাক হয়ে যায়। যৌনতা মানুষকে এত আনন্দ দিতে পারে। অকুতোভয় ডাকাত সর্দার অনুভব করে, এতদিন শুধু সে একটি স্বাস্থ্যবান ঘোড়া যেমন ঘোটকির সঙ্গে গমন করে ততটাই সরলভাবে কিছুক্ষণ শরীর সঞ্চালন করে একসময় গমকে গমকে বীর্যস্খলন করে থামাকেই যৌনতা বলে জানতো। সে কখনও কোনও মহিলাকে জোর করে পেতে চায়নি। ওর পেশীবহুল শরীর দেখে আকৃষ্ট হয়ে যে মহিলাই তাকে চেয়েছে প্রত্যেকেই অন্যের বউ। সেসব গোপন অভিসারে যৌনমিলনে তাদের ভূমিকাও নিছকই পশুর মতন জৈবিক। প্রত্যেকেই প্রায় একইভাবে পা ফাঁক করে ওকে টেনে নিত। তাদের কারও স্মৃতিই দলপতিকে দীর্ঘদিন তাড়া করেনি।

Read more...

অশ্রুকথা মিশ্র আলাপে

তপন মহন্ত

অশ্রুকথা মিশ্র আলাপে

এক ছুটির দিনে আমার মোবাইলে ভেসে এলো এক অচেনা ক্ঠস্বর। পরিচয় পেয়েই আমি অভিভূত। উনি বললেন, “তোমার কবিতার অভিমুখই আলাদা। আমার বিপরীত। তবু তুমি আমার কবিতায় আকৃষ্ট কেন?” আমি বললাম, ‘আপনি এই বয়সেও এত সক্রিয়। এখনো লিখে চলেছেন প্রেমের কবিতা, সনেট। সেটার আকর্ষণ কম?’

মনে পড়ে, “চেরাপুঞ্জি গুহার ভেতর ঈষৎ আলোয় অনেকক্ষণ / ফেরার পথে গুহার মুখে লিখেছিলাম যুক্তনাম” (মনে পড়ে মনে কি পড়ে, নির্বাচিত কবিতা) আসলে ‘মজলিশ সংলাপ’ সম্পাদক তুষার কান্তি সাহা জবরদস্তি একটা কবিতার বই রিভিউ করিয়েছিলেন। সভয়ে সভ্রমের সে রিভিউয়ে কবি ও তাঁর কবিতার প্রতি আমার ভালোলাগার রেশটুকুই ফুটে উঠেছিল। সে লেখাটি কবির নজরে পড়েছে অনেক পরে। তাই বিলম্বিত ফোন কল। কথাপ্রসঙ্গে জেনে নিলেন, আমি প্রতি বছর মুম্বাইতে যাই। বললেন,’ফোন করবে। আমি গাড়ি পাঠিয়ে দেব। চলে এসো এখানে।’ আমি অবাক! “কখনো দেখিনি তাকে; দূরভাষে কথা হয় রোজ / স্বরে তার সুর ঝরে, ভিজে যায় আমার হৃদয়” (দূরভাষ কথা হয় রোজ, নির্বাচিত কবিতা)।

না, আমি ফোন করিনি। স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করে সমস্ত চেক আপ শেষে ফেরবার আগের দিন ফোন করলাম। উনি গাড়ি পাঠাতে চাইলেন। সবিনয়ে প্রত্যাখান করলাম। কারণ লোকাল ট্রেনেই তাড়াতাড়ি যাবো। অবশেষে মুম্বাই সেন্ট্রাল থেকে যাত্রা শুরু। মালাড স্টেশনে নেমে অটো নিয়ে দুরু দুরু বুকে পৌছে গেলাম উনার ফ্ল্যাটে। প্রায় দুঘন্টা কথা হল। আমি উনার সনেট সম্পর্কে আমার ভালোলাগাটুকু বললাম। অসমিয়া কবিতার অনুবাদ সম্পর্কে আলোচনা হল। উনার অনুবাদে হেম বরুয়ার ‘মমতার চিঠি’র কথা ভোলা যায়!

Read more...

  ত্রিপুরা ফোকাস  । © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ত্রিপুরা ফোকাস ২০১০ - ২০১৭

সম্পাদক : শঙ্খ সেনগুপ্ত । প্রকাশক : রুমা সেনগুপ্ত

ক্যান্টনমেন্ট রোড, পশ্চিম ভাটি অভয়নগর, আগরতলা- ৭৯৯০০১, ত্রিপুরা, ইন্ডিয়া ।
ফোন: ০৩৮১-২৩২-৩৫৬৮ / ৯৪৩৬৯৯৩৫৬৮, ৯৪৩৬৫৮৩৯৭১ । ই-মেইল : This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.