বি জে পি–র হুজ্জতির প্রতিবাদে সোচ্চার সি পি এম

মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বি জে পি–র হুজ্জতির প্রতিবাদে সোচ্চার সি পি এম। রবিবার সি পি এম দলের তরফে গোটা রাজ্যে ধিক্কার মিছিল, সভা হয়। বার্তা দেওয়া হয়, কোনওভাবেই রাজ্যে শান্তির পরিবেশ হুজ্জতি করে নষ্ট করতে দেওয়া হবে না। সি পি এম যে রাজ্যে অশান্তি তৈরির চেষ্টা চুপ করে সহ্য করবে না বিক্ষোভ সভার সব বক্তার কথায় পরিষ্কার। বি জে পি সভাপতি বিপ্লব দেবের ওপর হামলার অভিযোগ এনে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের বাসভবনের সামনে হুজ্জতি চালায় বি জে পি। রবিবার পথে নেমেই এর কড়া জবাব দিয়েছে বামেরা।

আগরতলার কেন্দ্রীয় মিছিলটি শুরু হয় রবীন্দ্র ভবনের সামনে থেকে। প্যারাডাইস চৌমুহনিতে হয় বিক্ষোভ সভা। ছিলেন সাংসদ শঙ্করপ্রসাদ দত্ত,  বিধায়ক রতন দাস, সি পি এম সদর মহকুমা সম্পাদক, শুভাশিস গাঙ্গুলি, রাজ্য কমিটির সদস্য অমল চক্রবর্তী, সমর আঢ্য–সহ রাজ্যনেতৃত্ব। বিক্ষোভ সভার সভাপতি ছিলেন শ্যামল দে। একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের বিসর্জনের শোভাযাত্রা ঘিরে সামান্য দুর্ঘটনাকে বি জে পি সভাপতির  রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টার নিন্দা জানান সব বক্তাই।  সি পি এমের তরফে অভিযোগ করা হয়, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অনুমতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে গিয়ে বারবার গুন্ডামি করছে বি জে পি। রাজ্যে বামেরাও  বিরোধী দলে ছিল। প্রতিদিন আক্রান্ত হয়েছেন বাম নেতা–কর্মীরা। সি পি এম সদর মহকুমা সম্পাদক শুভাশিস গাঙ্গুলির প্রশ্ন, বামেরা কোনও মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করেছে দৃষ্টান্ত আছে কিনা? তিনি সাফ অভিযোগ করেন,  আগরতলায় শ–খানেক সমাজদ্রোহীকে জড়ো করে বারবার মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে হামলা করে হিরো হতে চাইছেন বি জে পি–র রাজ্য সভাপতি। একই সঙ্গে সি পি এম নেতাদের খোলা চ্যালেঞ্জ, দিনে পাঁচবার মোদির সঙ্গে অমিত শাহর সঙ্গে কিংবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে সস্তা প্রচার করে ত্রিপুরার মানুষকে ভয় দেখানো যাবে না। হিম্মত থাকলে মোদি সরকার ত্রিপুরায় ৩৫৬ প্রয়োগ করুক। সি পি এম রাজ্য কমিটির সদস্য বিধায়ক রতন দাস বলেন, গণতন্ত্রের মজবুত বিচরণ ক্ষেত্র ত্রিপুরা। এ রাজ্যের মানুষ লড়াই করতে জানেন। ওড়িশা সি পি এম রাজ্য দপ্তরে পতাকা হাতে হামলা করেছে বি জে পি। কর্ণাটকেও সি পি এমের একটি অফিসে হামলার অভিযোগ রয়েছে বি জে পি–র বিরুদ্ধে। স্বৈরতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে এ সব ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে  সি পি এম।

বি জে পি দল কর্তৃক মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে হুজ্জতির প্রতিবাদে কল্যাণপুর, বাগানবাজারে বিক্ষোভ মিছিল, সভা করল সি পি এম। রবিবার বিকেলে সুসজ্জিত বিক্ষোভ মিছিল  কল্যাণপুর, বাগানবাজারের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে।  মিছিল থেকে ধিক্কার জানানো হয় বি জে পি–কে। মিছিল  সি পি এম অঞ্চল কমিটির উদ্যোগে হয়। শেষে সভায় ভাষণ দেন সি পি এম নেতা প্রণব চক্রবর্তী, সমীর চক্রবর্তী, শঙ্কর দাস–সহ অনেকে। বক্তারা বি জে পি–র প্রতি তীব্র ক্ষোভ ব্যক্ত করেন। 

রাজ্যের  মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের সরকারি আবাসে বি জে পি দলের হামলা হুজ্জতির প্রতিবাদে রবিবার রাতে অমরপুর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা হয়েছে। সুব্রত কর্মকারকে সভাপতি করে বক্তব্য পেশ করেন সি পি এম অমরপুর মহকুমা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য প্রহ্লাদ পাল, যুবনেতা শিমূল চক্রবর্তী। অমরপুরের ১০টি অঞ্চল এলাকায় ও করবুক মহকুমায় বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা সংগঠিত হয়েছে। 
বি জে পি–র নৈরাজ্য সৃষ্টির অপপ্রয়াস এবং মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি আক্রমণের  প্রতিবাদে রবিবার তেলিয়ামুড়ায় হয় প্রতিবাদ মিছিল।  সি পি এম তেলিয়ামুড়া অঞ্চল কমিটি এদিন তেলিয়ামুড়া অঞ্চল এলাকার সংগ্রামী শ্রমিক কৃষক ছাত্র যুবক তেলিয়ামুড়া সি পি এম অফিসে জমায়েত হয়। মিছিলে পা মেলান সি পি এম মহকুমা সম্পাদক সুধীর সরকার, বিধায়ক গৌরী দাস।
মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করে আক্রমণের প্রতিবাদে পথে নেমেছে সি পি এম রাজনগরে। রবিবার সন্ধেয় রাজনগর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে বি জে পি–র ঘৃণ্য আক্রমণের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে শত শত বাম কর্মী–সমর্থকেরা এর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধের ডাক দেন। সেখানে দলের নেতা নিরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য পেশ করেন বিধায়ক সুধন দাস। এদিন সন্ধেয় বড়পাথরি বাজারেও বিরাট বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। অঞ্চল সম্পাদক নেপাল মজুমদারের সভাপতিত্বে বক্তব্য পেশ করেন সি পি এম নেতা সভাপতি হিমাংশু রায়।  বি জে পি–র নেতা–কর্মীদের এই আক্রমণের বিরুদ্ধে সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে এক হওয়ার ডাক দেন নেতারা।  এদিন রাধানগর, শ্রীরামপুর, নীহারনগর, বামখলা প্রভৃতি জায়গায়ও প্রতিবাদ বিক্ষোভ পথে নামে প্রচুর মানুষ।‌