ত্রিপুরা ফোকাস

No result ..

ত্রিপুরায় দুর্গাপুজো মিশ্র সংস্কৃতির প্রতীক

শ্যামল ভট্টাচার্য ।। আগামীবছর ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে রাজ্যকে অশান্ত করার একটা সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা চলছে। রাজ্যে সম্প্রীতির উৎসব দুর্গাপুজোর মুখে প্রথমে আইপিএফটি- র বিক্ষোভ সমাবেশ কাভার করতে যাওয়া সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যা, আর তারপর পুলিশের আইজি আইপিএস অফিসারকে কোপানোর প্রচেষ্টা ইত্যাদির মাধ্যমে ত্রিপুরার আবহমান সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করার প্রচেষ্টা চলছে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। রাজ্য সরকার কি এই অশনি সংকেত টের পাচ্ছে না? রাজ্যের শান্তিপ্রিয় বিভিন্ন জনজাতির মানুষ চায় যে সরকার কঠোর হাতে এই দুষ্কৃতিদের দমন করুক।

 

ইতিহাসবর্ণিত সময়ের অনেক আগে থেকেই ত্রিপুরায় দুর্গাপুজো  মিশ্র সংস্কৃতির প্রতীক। ছবিমুড়া, দেবতামুড়া এবং ঊনকোটিতে পাহাড়ের গায়ে পাথরে খোদিত অসংখ্য অতিকায় দেবদেবীর মুর্তি , বিশেষ করে শিব, দুর্গা ও গণেশের আদল প্রমাণ করে যে, ত্রিপুরায় ইতিহাসবর্ণিত সময়ের অনেক আগে থেকেই দুর্গাপুজো হত। বাঙালির শারদীয় দুর্গোৎসব বা অকালবোধনের সর্বপ্রাচীন প্রমাণটি বিধৃত রয়েছে ‘ত্রিপুরা বুরুঞ্জী’-তেই। সেই উল্লেখ অনুযায়ী ১৭১১ খ্রিষ্টাব্দে অহোম রাজত্বের রাজধানী রংপুরে এই দুর্গোৎসবের সময় ত্রিপুরার রাজার দূত রামেশ্বর তর্কালঙ্কার গিয়েছিলেন। এই ঘটনার থেকেও ৫০ ত্রিপুরাব্দ বা ৬৪০ খ্রিষ্টাব্দে রাজা কিরীট বা ডুম্বুর ফায়ের আমলে, অর্থাৎ বঙ্গদেশের রাজা আদিশূর প্রথম কনৌজ থেকে বৈদিক ব্রাহ্মণ আনারও প্রায় একশো বছর আগে মিথিলা থেকে পাঁচজন ব্রাহ্মণকে ত্রিপুরায় আনিয়ে ৫১ ত্রিপুরাব্দে রাজ্যে ভাল ফসলের জন্য যজ্ঞ করান। ওই যজ্ঞটি হয়েছিল তৎকালীন ত্রিপুরার অন্যতম আয়ের উৎস বর্তমান বাংলাদেশের শ্রীহট্ট জেলার ভানুগাছ পরগণার  'মঙ্গলপু' গ্রামে। যে মৈথিলী ব্রাহ্মণেরা সেই পুজো ও যজ্ঞে উপস্থিত ছিলেন তাদের নাম হল, বৎস গোত্রীয় শ্রীনন্দ, বাৎস্যগোত্রীয় আনন্দ, ভরদ্বাজ গোত্রীয় গোবিন্দ, কৃষ্ণাত্রেয় গোত্রীয় শ্রীপতি এবং পরাশর গোত্রীয় পুরুষোত্তম। ওই যজ্ঞ সুসম্পন্ন হওয়ার পর ব্রাহ্মণরা মিথিলায় ফেরার জন্য ত্রিপুরাধিপতির অনুমতি চাইলে তিনি আন্তরিকভাবে তাদের সবাইকে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করেন। এবং তাম্রশাসনের মাধ্যমে এই পাঁচজন ব্রাহ্মণকে পাঁচটি গ্রামের ‘স্বামী’ উপাধি দিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠিত করেন। ওই অঞ্চল আজও ‘পঞ্চখণ্ড’ নামে পরিচিত। তখন থেকেই ওই ব্রাহ্মণরা প্রতিবছর ত্রিপুরা রাজবাড়িতেও দুর্গাপুজো শুরু করেন। তাঁরাই পরবর্তী সময়ে মিথিলা থেকে কাত্যায়ন, কাশ্যপ, মৌদগলা, স্বর্ণকৌশিক ও গৌতম গোত্রীয় আরও পাঁচঘর সাগ্নিক ব্রাহ্মণ এবং তাঁদের সঙ্গে সদাচারী ভৃত্য ও নরসুন্দর  ইত্যাদি সম্প্রদায়ের মানুষকে এনে নিজের নিজের গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমান ত্রিপুরা, বাংলাদেশের নোয়াখালি, সিলেট, আসামের কাছাড়ের অধিকাংশ অঞ্চলে এখন এদের বংশধররা বসবাস করেন। কিন্তু ওই ‘ত্রিপুরা বুরুঞ্জী’-র উল্লেখের আগে এদের দ্বারা শারদীয় দুর্গাপুজোর কোনও ঐতিহাসিক প্রমাণ আমাদের হাতে নেই। তবে ওই খ্রিস্টীয় ষোড়শ শতাব্দীতে ওড়িশার রামেশ্বরপুরে আকবরের আমলে টোডরমলের প্রতিনিধি ঘোষ মহাশয়দের পুজো কিংবা সপ্তদশ শতকের গোড়ার দিকে কলকাতার বড়িশা রায়চৌধুরী পরিবারের (১৬১০খ্রিস্টাব্দে) পুজোর মতোই জনশ্রুতি অনুসারে ত্রিপুরায় গত প্রায় দেড়হাজার বছর ধরে দুর্গাপুজো হচ্ছে বলা যায়।

ত্রিপুরার রাজাদের দুর্গা আরাধনার (শারদীয়া নয়) প্রথম প্রামাণ্য নিদর্শন পাওয়া যায় রাজা রত্ন মানিক্য (১৪৬৪-৬৭ খ্রিস্টাব্দ)-র মুদ্রায়। ওই মুদ্রাগুলিতে ‘শ্রী দুর্গাপদ’, ‘শ্রীদুর্গারাধনাপ্রাপ্ত’ ইত্যাদির উল্লেখ রয়েছে। সেই পুজো হত বসন্তকালে। তাছাড়া কালীরূপে শক্তি আরাধনাও যে প্রচলিত ছিল তা আমরা রাজমালায় পড়েছি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাজা গোবিন্দ মাণিক্যের আমলে ভুবনেশ্বরী মন্দিরে কালীপুজো ও নরবলির কথা লিখেছেন। ওই নরবলি প্রথার বিরুদ্ধে রাজা গোবিন্দ মাণিক্যের লড়াই দেখে বোঝা যায় যে সেই শক্তিসাধনার রেওয়াজ তাঁর আগে থেকেই চলছিল। যাই হোক, আবার ফিরি দুর্গাপুজো প্রসঙ্গে।

মহারাজা বীরচন্দ্র মাণিক্য বিজয়া দশমীতে অসম /হসম /হালাম ভোজনের আয়োজন করতেন। বিসর্জনের জন্য যুবরাজ রাধাকিশোর দায়িত্ব নিতেন। আগের দিন নবমীতে উদয়পুর মাত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে রাজপরিবারের পক্ষ থেকে বিশেষ পুজো দেওয়া হতো। মহারাজ বীরচন্দ্র স্বয়ং উপস্থিত থাকতেন, কখনো কখনো নিজেই ঘোড়া চালিয়ে চলে যেতেন উদয়পুর। সারারাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সকল  জনজাতির মানুষ  দলবেঁধে আসতেন। চাকলারোশনাবাদ সহ কৈলাসহর, অমরপুর, বিলোনিয়া, তেলিয়ামুড়া, চট্টগ্রাম, গণ্ডাছড়া, ধর্মনগর সহঅনেক অঞ্চল থেকেই রাজভক্তদল আসতেন। দীর্ঘ পথ, দুতিনদিন ধরে পথ চলে রাজভক্তরা চলে আসতেন। রাজবাড়িতে এসেই 'মহারাজের জয় হোক'  হাঁক দিয়ে  যার যার বরাদ্দকৃতস্থানে দল নিয়ে চলে যেতেন।  ওই অসম ভোজন অনুষ্ঠানে  সবাই আসার পর প্রাসাদবারান্দায় উঁচু আসনসদৃশ কাঠের উপর মহারাজ বীরচন্দ্র মাণিক্য এসে দাঁড়াতেন। সবাইকে দেখাএবং দুচার কথা বলা..মহারাজ বীরচন্দ্র সবার সংগে মেঝেতে আসন করে খেতেও বসতেন। খাবারের সময় কেউ ঘুমাতে পারতো না। মহারাজ নিজের ক্যামেরায় সেসব ছবি তুলেরাখতেন। আগের দিন এসে পরের দিন ভোর না হওয়া পর্যন্ত চলতো খাবারদাবার। খিচুড়ি এবং পায়েস।      

বিংশ শতাব্দীতে আগরতলায় রাজবাড়ির পুজো ছাড়াও উজিরবাড়ির পুজো, গোঁসাইবাড়ি বা প্রভুবাড়ির পুজো, কয়েকজন কর্তার ( রাজা না হওয়া রাজপুত্র) বাড়ির পুজো ছাড়াও কয়েকটি বনেদি বাঙালি পরিবারে পুজো হত। কৃষ্ণদাস ভট্টাচার্য, সত্যরঞ্জন বসু এবং সীতানাথ ব্যানার্জির মতন কয়েকজন সভাসদের বাড়িতেও পুজো হত। সাংবাদিকতাসূত্রে বিভিন্ন সময়ে আমি কবি করবী দেববর্মণ, সাংবাদিক ও সম্পাদক জিতেন্দ্র পাল, বেহালাবাদক ত্রিপুরেন্দ্র ভৌমিক, প্রাবন্ধিক জিতেন্দ্রজিত সিংহ, সেতারবাদক কালীকিঙ্কর দেববর্মণদের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। তাঁরা প্রত্যেকেই তাঁদের ছোটবেলায় দেখা রাজ-আমলের পুজো নিয়ে বেশ নস্টালজিক। তখন নাকি অনেক বেশি আনন্দ হত। এখন যেমন অনেকে পুজোর সময় রাজ্যের বাইরে বেড়াতে যান, তখন কেউ যেতেন না। যারা কর্মসূত্রে বাইরে থাকতেন সবাই পুজোর সময় রাজ্যে ফিরে আসতেন।

তখন আগরতলায় অনেক ফুলের গাছ ছিল, বাগান ছিল। কুঞ্জবন এলাকাটা ছিল ফুলের সাম্রাজ্য। প্রায় সারা শহরেই পথের দুপাশে প্রচুর দোলনচাঁপা ও কাঁঠালিচাঁপা গাছ ছিল। আর ছিল সারি সারি কৃষ্ণচূড়া আর রাধাচূড়া। শরত এলে ঘুড়ি ওড়ানোর ধুম পড়ত। ছোটরা নানাভাবে সুতোমাঞ্জা দিয়ে ঘুড়ি ওড়াত। হাওড়া নদী দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে নৌকা এসে ভিড়ত গোলবাজার ও দশমীঘাটের কাছে। ব্যবসায়ীরা হরেক রকম পণ্যের পসরা নিয়ে আসতেন। রাজবাড়ি ও অন্যান্য সম্ভ্রান্ত বাড়ির মহিলারা ঘোড়ার গাড়ি কিম্বা মোটর গাড়িতে চেপে মেলার মাঠে গিয়ে গাড়ির ভেতরে বসেই পছন্দ করে জিনিস কিনতেন। রাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুর ও রানিরা ছাড়া রাজপরিবারের অন্য সদস্যরা ঘোড়ার গাড়ি করে পুজো দেখতে বেরোতেন। সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটেই পুজো দেখতেন। রাজা ও রানিরা দুর্গাবাড়ি ছাড়া আর কোথাও যেতেন না।

দশমীর দিন উজ্জ্বয়ন্ত প্রাসাদের পাশে এখন যেখানে টাউন হল, সেখানে তৎকালীন উজির বাড়ির সামনের ফাঁকা জায়গায় সমস্ত প্রতিমা এক জায়গায় জড়ো হত। সমবেত ঢাক ও কাঁসরবাদন এবং ধূপতি নৃত্য হত। প্রথমে রাজা, তারপর রানিরা সমস্ত প্রতিমা দেখে প্রণাম জানাতেন। তারপর দু-তিনটে সুসজ্জিত হাতি, ২০-২৫ জন ঘোড়সওয়ার, পদাতিক সৈন্য ও সেনাবাহিনীর ব্যান্ডপার্টিকে সামনে রেখে শোভাযাত্রা শুরু হত। সবার আগে থাকত প্রভুবাড়ি বা গোঁসাইবাড়ির প্রতিমা, তার পেছনে রাজবাড়ির প্রতিমা, উজিরবাড়ির প্রতিমা, অন্য সভাসদদের প্রতিমা এবং কর্তাবাড়ির প্রতিমাগুলি সারিবদ্ধ ভাবে বাঁশের মাচায় চাপিয়ে কাঁধে নিয়ে দশমীঘাটের দিকে শোভাযাত্রা এগিয়ে যেত। মাইসোরের দশহরা আর কুলুর দশহরা ছাড়া আর কোথাও এমন শোভাযাত্রা দেখা যায় না। তবে মাইসোর এবং কুলুতে এখনও প্রতিবছর এরকম শোভাযাত্রা বেরোয়। কিন্তু ত্রিপুরার ভারতভুক্তির প্রায় কুড়িবছর পর পর্যন্ত চলার পর আগরতলায় এই শোভাযাত্রার প্রচলন উঠে যায়।             

রাজ্যে প্রথম বারোয়ারি পুজো হয় রাজন্য ত্রিপুরাতেই, ১৯৪৭(মতান্তরে ১৯৪৬ এ, মহারাজা বীরবিক্রম প্রয়াত হন ১৯৪৭ এর ১৭ মে, কাজেই ওই পুজোর বর্ণনা অনুযায়ী ১৯৪৭ এর পুজোতে এসে প্রসাদ খাওয়া অবাস্তব প্রসঙ্গ)। তার আগে রাজ্যের তিনদিকেই  সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ফলে মহারাজা বহু পূর্ববঙ্গের শরণার্থীকে আশ্রয় দেন। রাজ্যে তখন অনেক মুসলমান  প্রজা ছিল।ফলে ভেতরে ভেতরে কিছু সংশয় সন্দেহ জেগে ওঠায় রাজধানীর কিছু যুবক সবার মধ্যে ঐক্যবোধ জাগাতে বারোয়ারি পুজোর সিদ্ধান্ত নেন। মহারাজাও অনুমতি দেন।যদিও এর  আগে সমবায় সমিতি গঠন করে রাজবাড়ির দরবার হলের সামনে ১৯৩৮ সালে দুর্গাপুজো হয়েছিল, কিন্তু তাঁকে বারোয়ারি পুজো বলা যায় না। ১৯৪৭-এ বর্তমান পোস্টঅফিস চৌমুহনীতে যেখানে পশ্চিম কোতোয়ালি থানা রয়েছে, সেই জায়গায় "পশ্চিমপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব নামে আগরতলার প্রথম বারোয়ারি পুজো হয়। তখন আগরতলা ছিল পাঁচপাড়ার শহর। ওই বারোয়ারি পুজো কমিটির সম্পাদক ছিলেন চুনী বসু। হরিকর্তা বা হরেন্দ্রকিশোর দেববর্মণের উৎসাহে নেপাল চক্রবর্তী, অনিলচন্দ্র ভট্টাচার্য, টিপু সিংহ, প্যারা মিয়াঁ, মংগল সিংহ, সুধা চন্দ সহ অনেকে মিলে এই পুজো করেন। পরিচালনায় সুধাংশু দত্ত। মূর্তি তৈরি করেছিলেন মহারাজার এক দেহরক্ষী। দাম নিয়েছিলেন ৩০০ টাকা। দারোগা অমূল্য গৌতম ছিলেন প্রধান পুরোহিত। ১৫০ টাকা বায়না দিয়ে পূর্ব পাকিস্থান থেকে 'রসুন চৌকি' বাদ্য আনা হয় আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে। পুরোহিত দক্ষিণা দেওয়া হয়েছিল ১০ টাকা। অষ্টমীর দিন স্বয়ং মহারাজা  পুজো দেখতে এসেছিলেন। তাঁর হাতে প্রসাদ তুলে দিয়েছিলেন গোপাল হরিজন। রাজার উপ্সহিতিতে প্রতিমার সামনে দুই হাতে ধূপতি নিয়ে আরতি করেছিলেন সুকুমার ভৌমিক। প্রতিরাতে রানিরবাজারের খদ্দর পার্টি এসে যাত্রাপালা করে। নবমীর দিন জনসাধারণকে খিচুড়ি প্রসাদ দেওয়া হয়। পরের বছর এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত হয় আচার্যপাড়ায় চন্দ্রমণি আচার্য ও যামিনী আচার্যের উদ্যোগে বারোয়ারি পুজো। ১৯৪৯ এ যুক্ত হয় টাউন  বড়দোয়ালির কল্যাণ সঙ্ঘ। এটিই রাজ্যে প্রথম ক্লাবের পুজো। আর ১৯৫২-র মধ্যে কের চৌমুহনী, কাসারিপট্টি কুমার ক্লাব, দুর্গা চৌমুহনী, কল্যাণ সমিতি, কল্যাণ সঙ্ঘ, রামনগরের আলোক সঙ্ঘ পুজো শুরু করে দেয়। এই আলোক সঙ্ঘই রাজ্যে প্রথম থিমের পুজো করেছিল পিচবোর্ডের উপর রঙ দিয়ে প্রতিমা এঁকে। শিল্পী ছিলেন বিমল গুপ্ত।  বারোয়ারি পুজো শুরু হওয়ার পর সেগুলি দেখতে বিল্বষষ্ঠীর দিন থেকেই পাহাড় থেকে পায়ে হেঁটে, কিম্বা মুড়ির টিন বাসে করে জনজাতির মানুষেরা রাজধানী শহরে পুজো দেখতে আসতেন। তাঁদের পোশাকের বৈচিত্র,  এবং সহজ সরল চলাফেরায় শহরের পথঘাট মুখর হত। পুরো শহরে তখন মেলার পরিবেশ। পাহাড়ের মেয়েরা এসে উঠতেন শহুরে বইনারিদের বাড়িতে। তার বর্ণনা আমরা বন্ধ্য শঙ্খশুভ্র দেববর্মনের লেখায় পাই। প্রতিটি বারোয়ারি মণ্ডপ ঘুরে ঘুরে দেখে, রাতে হ্যাজাকের আলোয় বিভিন্ন মণ্ডপে আয়োজিত জলসা আর যাত্রাপালা দেখতেন সকলে। পাঁচদিন শহরে আনন্দ করে জনজাতির মানুষেরা দশমীর বিসর্জন দেখে তবেই নিজেদের গ্রামে ফিরতেন।

সম্প্রীতির উদ্দেশ্যে শুরু হওয়া এই উৎসব রাজ্যে জাতি-ধর্ম- বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মহোৎসবে পরিণত হয়েছে। সাত দশক পর এখন আগরতলায় প্রায় ৩৬০টি আর সারা রাজ্যে ২২০০র মতন দুর্গাপুজো হয়।

 রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এই উৎসবের সময়ে রাজ্যে হিংসার পরিবেশ সৃষ্টি করে আতঙ্ক ছড়ানোর অপপ্রয়াসকে নস্যাৎ করতে এগিয়ে আসতে হবে প্রত্যেক শান্তিপ্রিয় ত্রিপুরাবাসীকে।

ভিডিও গ্যালারী

  ত্রিপুরা ফোকাস  । © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ত্রিপুরা ফোকাস ২০১০ - ২০১৭

সম্পাদক : শঙ্খ সেনগুপ্ত । প্রকাশক : রুমা সেনগুপ্ত

ক্যান্টনমেন্ট রোড, পশ্চিম ভাটি অভয়নগর, আগরতলা- ৭৯৯০০১, ত্রিপুরা, ইন্ডিয়া ।
ফোন: ০৩৮১-২৩২-৩৫৬৮ / ৯৪৩৬৯৯৩৫৬৮, ৯৪৩৬৫৮৩৯৭১ । ই-মেইল : This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.