ত্রিপুরা ফোকাস

No result ..

রাজ্য

আইপিএফটি-র আন্দোলন প্রত্যাহার করার দায়িত্ব কেন্দ্রের উপরে ছাড়লো রাজ্য সরকার

রাজ্য প্রশাসন আইপিএফটির আন্দোলন প্রত্যাহার করা ইস্যুতে উদ্যোগী হলেও প্রয়াস কার্যত নিস্ফলা। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে ৭দিন পর মুখ খুলে জাতীয় সড়ক অবরোধমুক্ত করার দায়িত্ব সরাসরি কেন্দ্রের উপরেই ছেড়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি পৃথক রাজ্যের দাবীতে জাতীয় সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী আন্দোলনকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। জানা যায়, আইপিএফটি নেতারা এই ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে কথা বলতে দিল্লিতে অবস্থান করছেন।তারা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং কে জাতীয় সড়ক অবরোধ সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেছেন বলেও জানা যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পৃথক রাজ্যের দাবি কখনোই মানা সম্ভব নয়। এই ব্যাপারে রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে প্রস্তাবও পাশ হয়েছে।  অবরোধ প্রত্যাহার করার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার আন্দোলনকারীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে টেলিফোনে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন বলে জানিয়েছেন।

আইপিএফটি-র অবরোধ আন্দোলন প্রত্যাহারের কোনো সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে না

সাতদিন পূর্ন হতে চলেছে আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ।অবরোধ আন্দোলন প্রত্যাহারের কোনো সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে না।আইপিএফটি ও রাজ্য সরকারের বৈঠক নিস্ফলা রয়ে গেল। রবিবার রাজ্য সরকারের তরফে আইপিএফটিকে আলোচনায় বসার জন্য আবেদন জানানো হয়। সেই মোতাবেক মহাকরণে হাজির হন এনসি দেববর্মার নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। রাজ্য সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব সঞ্জীব রঞ্জন, পুলিশের মহানির্দেশক অখিল কুমার শুক্লা, জেলাশাসক,  জেলার পুলিশ সুপার প্রমুখ। দুপুর ১২ টা নাগাদ আলোচনা শুরু হয়। এক ঘন্টা চলে বৈঠক। কিন্তু আলোচনা থেকে কোনো সমাধান সূত্রই বের হয়নি। তিপ্রাল্যান্ড ইস্যুতে আইপিএফটি নেতৃত্ব ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসন থেকে অবরোধ আন্দোলন তুলে নিতে আহবান জানানো হয়েছিল। কিন্তু আইপিএফটি নেতৃত্ব এতে সাড়া দেয়নি। ফলে আইপিএফটির রেল ও জাতীয় সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন দলের সভাপতি এনসি দেববর্মা। বিজেপি অবরোধ তুলে দিতে ৪৮ঘন্টার সময়সীমা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার কি হয় এখন সেদিকেই সবার নজর।

আন্দোলনের নেপথ্যে কাদের ভূমিকা রয়েছে তা নিয়ে রাজ্যবাসী দ্বিধা ধন্ধে ভুগছেন। শাসক দল বলছে এর পেছনে সহযোগিতা করছে বিজেপি, অন্যদিকে বিজেপি বলছে এর পেছনে মদত রয়েছে শাসক দল সিপিএমের।

জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ অব্যাহত

আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অনির্দিষ্টকালের অবরোধ আন্দোলন এখনও জারী রয়েছে। এতে রাজ্যের মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা তিপ্রাল্যান্ডের দাবি নিয়ে কেন্দ্রের সাথে আজও কথা বলবে বলে জানা যায়। এক্ষুনি আন্দোলন প্রত্যাহার কর হবে না বলে জানায় আইপিএফটি নেতৃত্ব।দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের সাথে আইপিএফটি নেতৃত্ব যোগাযোগ রেখে চলেছে। শনিবার প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের সাথে পুনরায় আলোচনার পর আন্দোলন প্রত্যাহার করা নিয়ে ভাববে বলেন আইপিএফটির শীর্ষ নেতৃত্ব।

এদিকে পুলিশ প্রশাসন, গত বুধবার আন্দোলনের নামে যে সব যুবক উলঙ্গ হয়ে অভব্য, অশালীন আচরণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে বলে জানা যায়। পুলিশ সে সকল যুবকদের চিহ্নিত করতে পেরেছে। 

আন্দোলন কার্যত পুলিশী ঘেরাটোপের মধ্যেই চলছে। আন্দোলনস্থলে রয়েছে পর্যাপ্ত আরক্ষাবাহিনী। 

জাতীয় সড়ক অবরোধ মুক্ত করতে রাজ্য সরকারকে কড়া বার্তা প্রদেশ কংগ্রেসের

আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়ক আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে অবরোধ মুক্ত না হলে প্রদেশ কংগ্রেস পাল্টা আন্দোলনে যাবে বলে রাজ্য সরকারকে কড়া বার্তা দিয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিৎ সিনহা এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধের ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত। আইপিএফটি-র এ আন্দোলনে রাজ্যের সাধারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এ অবরোধ কর্মসূচিতে বিজেপি-র প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে। রাজ্য সরকারের ভূমিকাও স্পষ্ট না। সিপিআইএম ও বিজেপি এ আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে তৎপর হয়ে উঠেছে। বিজেপি এ ধরণের কাজকর্মে অভ্যস্ত। রাজ্য সরকার চাইলেই জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ মুক্ত করতে পারে। কিন্তু সরকার তা এখনও করেনি।ফলে প্রদেশ কংগ্রেস আবরোধ মুক্ত করতে রাজ্য সরকারকে ২৪ ঘন্টা সময় দিয়েছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ মুক্ত না করলে রাজ্যজুড়ে পাল্টা ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আরো বলেন, এ অবরোধ পরিবেশ বিষিয়ে তুলছে। প্রশাসনের শক্ত হাতে এর মোকাবিলা করা উচিৎ ছিল।

পৃথক রাজ্য 'তিপ্রাল্যান্ড'-র দাবিতে পোশাক খুলে প্রতিবাদে উত্তপ্ত রাজ্যের পরিবেশ

পৃথক রাজ্যের দাবি ঘিরে উত্তপ্ত ত্রিপুরা। পথে নেমে আন্দোলনে অ-বাম উপজাতি সংগঠন আইপিএফটি-র এন সি দেববর্মা গোষ্ঠী। পোশাক খুলে প্রতিবাদ, এটাই তাঁদের আন্দোলন কর্মসূচির নয়া কৌশল।এখানে দাবি উঠেছে তিপ্রাল্যান্ডের। গত সোমবার থেকে চলছে অনির্দিষ্টকালীন রেল ও পথ অবরোধ। আগরতলা থেকে প্রায় বত্রিশ কিলোমিটার দূরে খামতিংবাড়িতে আট নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ।আন্দোলনের তৃতীয় দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠে আন্দোলনরত কিছু যুবক আন্দোলনস্থলে হঠাৎ সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে অভব্য কায়দায় তীব্র আক্রোশ দেখাতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছুটে আসেন জেলাশাসক। আচমকা জাতীয় সড়কের উপর আন্দোলনকারীদের মধ্যে ১০-১৫ জন যুবক সরকার বিরোধী স্লোগান দিতে দিতে পরিধেয় বস্ত্র খুলে প্রতিবাদ জানাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠে পরিবেশ। পুলিশ বাধ্য হয়ে আইপিএফটি-র শীর্ষনেতাদের বিষয়টি জানালে তারা এসে অভব্য আচরণকারী যুবকদের আন্দোলনস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আন্দোলন ঘিরে আর কোনও উত্তেজকপূর্ণ খবর নেই। আন্দোলনকারীদের উলঙ্গ প্রতিবাদ আচরণের বিরুদ্ধে রাজ্য ও আন্তর্জালে তীব্র ছিছিক্কার পরিলক্ষিত।

ভিডিও গ্যালারী

  ত্রিপুরা ফোকাস  । © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ত্রিপুরা ফোকাস ২০১০ - ২০১৭

সম্পাদক : শঙ্খ সেনগুপ্ত । প্রকাশক : রুমা সেনগুপ্ত

ক্যান্টনমেন্ট রোড, পশ্চিম ভাটি অভয়নগর, আগরতলা- ৭৯৯০০১, ত্রিপুরা, ইন্ডিয়া ।
ফোন: ০৩৮১-২৩২-৩৫৬৮ / ৯৪৩৬৯৯৩৫৬৮, ৯৪৩৬৫৮৩৯৭১ । ই-মেইল : This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.